
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। ভোর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় দৃশ্যমানতা কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে যান চলাচলেও।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ অবস্থান করলেও আপাতত দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আকাশ সাময়িকভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। তবে আগামী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে তাপমাত্রা আরও কমার আভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়েই শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে।
গতকাল সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। কুয়াশার কারণে ভোর ও সকালের দিকে অনেক এলাকায় যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। চালকদের বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হয়েছে।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর ও খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমজীবীরা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। ছুটির দিন হওয়ায় সড়কে মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে পড়তে হয়েছে দুর্ভোগে।
এদিকে শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ঢাকায় বায়ুদূষণ আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ কম থাকায় ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যমতে, গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১৪১, যা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত। এ নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১৫তম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শীত ও দূষণের এই সময়ে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।









