প্রসঙ্গঃ অগণিত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে স্বচ্ছ গনতান্ত্রিক বৈষম্যহীন স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ কিভাবে,কতদিনে সম্ভব?

পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় কথিত অবৈধ এমপি মন্ত্রীসহ অধিকাংশ রাজনীতিবিদ ও প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী এবং পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর কথিত রাজনীতিবিদদের পালিত কিছুসংখ্যক সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজির মানসিকতা সম্পন্ন ফকিন্নি টাইপের বিভিন্ন মিডিয়ার কথিত প্রতিনিধি,নিজেদের সব কিছুর উর্ধে মনে করতেন। তাদের ধ্যান ধারনা চিন্তা ভাবনা ছিলো তাহারাই সকল ক্ষমতার উৎস। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কোন জবাবদিহিতা করতে হতো না। তাদের অন্যায় দেখলে কেউ প্রতিবাদ তো দুরের কথা বরং অধিকাংশই ক্ষেত্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ড জাস্টিফাই করার প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ হতো। উদ্দেশ্য ছিলো নেতার, স্যারের বা ভাইয়ের অধিকতর প্রিয়ভাজন হয়ে অনৈতিকভাবে অর্থ ও ক্ষমতার ভাগিদার হওয়া। কয়েক হাজার ছাত্র জনতার জীবন ও রক্তের বিনিময়ে ৫ আগষ্ট চরম ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও দীর্ঘ বছর পর্যন্ত সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে ফ্যাসিস্ট হাসিনার রোপন করা অপরাজনীতির সংস্কৃতির বিন্দু পরিমান পতন হয়নি,শুধু স্থানান্তরিত হয়েছে। সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ কথিত প্রতিনিধিরা এখনো তাদেরও চরিত্রের পরিবর্তন ঘটাতে বাধ্য হয়নি বরং পেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে তাহারাও পতিত ক্ষমতাধর ব্যক্তি থেকে কল্পিত ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে স্থানান্তরিত হওয়ার তোষামোদিতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। বড় রাজনীতি দলগুলোর মধ্যে গ্রুপিং রাজনীতি প্রকট আকার ধারন করায় এবং হাইকমান্ড থেকে গ্রুপিং রাজনীতি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হওয়ায়, গ্রুপিং শক্তিশালী করার জন্য নেতার দলের প্রতি আনুগত্য চেয়ে ব্যক্তি তোষামোদিকারীদের গুরুত্ব দিচ্ছে ।নিজের গ্রুপিংকে শক্তিশালী করার জন্য চাটুকারদের পদ পদবী দেওয়ার প্রতিযোগীতায় আসক্ত হয়ে পরেছে। সেক্ষেত্রে আদর্শ, চরিত্র, মেধা, প্রজ্ঞা সততা এবং জনগণকে কাছে টানার সক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি বা ত্যাগী কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যদের চরিত্রের পরিবর্তন ঘটাতে বাধ্য করা যায়নি। তাহারা এখনো নিজের ভাগ্য উন্নয়নে এবং পেশিশক্তির কল্পিত ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে অধিকতর সক্রিয়। এমপি, মন্ত্রী, মেয়র, কাউন্সিলর না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদেরকে সকল গ্রুপের সকল নেতাকে সমানভাবে তোষামোদি করতে হচ্ছে কারন বলা তো যায় না, কে কখনো বড় নেতা হয়ে যায় এবং তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাকে কাজে লাগে। তাই সকলকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পরেছে। বিগত দীর্ঘ বছরের অর্জিত চরিত্রের পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত কাউন্সিলিং এবং অন্যায়কারীদের অপরাধের শাস্তি দৃশ্যমান হওয়া ছাড়া এত তাড়াতাড়ি পরিবর্তন আশা করাও অনুচিত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে,এত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে স্বচ্ছ গনতান্ত্রিক বৈষম্যহীন স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ কিভাবে, কতদিনে সম্ভব?
রাষ্ট্রের ও সরকারের এবং দলগুলোর গঠনতন্ত্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করলেই কি স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ পেয়ে যাবো?
রাষ্ট্রের, সরকারের ও দলের সংস্কার হয়তো সিস্টেম পরিবর্তন করে দিতে পারবে।
গনতান্ত্রিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির মানসিকতা সৃষ্টিতে বাধ্য করবে। রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্র ও জনকল্যাণে কাজ করার বিধান চালু হবে। কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিধি বহিঃভূত ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহারের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা হবে।
কিন্তু অধিকাংশ সাধারন মানুষকে ভাল-মন্দ ন্যায় অন্যায় বুঝার ও অন্যায়, অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতো সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত রেজাল্ট দৃশ্যমান হবে না।
তাহলে উত্তর ক্লিয়ার এখন থেকেই ব্যক্তি পর্যায় থেকে ন্যায় ও অন্যায় বুঝে চলার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে এবং অপরাধীর রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে সাহসের সাথে সর্বদা প্রতিবাদে সোচ্চার থাকতে হবে এবং অপরকে প্রতিবাদী করে গড়ে তুলতে হবে। কোন পদ পদবী ধারী বা ক্ষমতাবান সব কিছুর উর্ধে এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী,সরকারের কর্মকর্তা কর্মচারী, যা ইচ্ছে তা করতে পারে, এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। যেখানেই তীল পরিমান অনিয়ম এবং দূর্নীতি হবে,সেখানেই সাহস ও বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রতিবাদ করতে হবে।
সংস্কারের পাশাপাশি সকল নাগরিককে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনে প্রানে বিশ্বাস করতে হবে, রাজনীতিবিদরা, সরকারের কর্মকর্তা কর্মচারীরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কেউই ভিন্ন গ্রহের আলাদা কোন বস্তু নয়। তাহারা সকলেরই রাষ্ট্রের ও দেশের জনগণের সেবক।
অতএব, সর্বাগ্রে দেশপ্রেমিক জনগণকে ৭১ স্বাধীনতার যুদ্ধ, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের এবং আহতদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শপদ নিতে হবে।
আমরা কোন অন্যায় অপরাধ করবো না, সামান্য পরিমান অন্যায় অপরাধ সহ্য করবো না।

১। রাজনীতিবিদদের পরিচ্ছন্ন রাজনীতি।
২। সংস্কার।
৩। বেকারত্ব দূরীকরণে ব্যাপক কর্মসংস্থান।
৪।অর্থনৈতিক মুক্তি।
৫ । দূর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থা।
সর্বপরি, দেশপ্রমিক সাহসী আদর্শিক নাগরিক স্বচ্ছ গনতান্ত্রিক বৈষম্যহীন স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে।
দেশের গনতান্ত্রিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বর্তমান মানসিকতা এবং অন্তর্বতীকালীন সরকার প্রধান ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নেওয়ার পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকলে,
আগামী প্রজন্ম দৃশ্যমান স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশে বসবাস শুরু করবে, ইনশাআল্লাহ!

কবি ও লেখক -এস.এম. কামাল হোসেন

মন্তব্য করুন